পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১২

কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া


কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া
আমার ভাইধন রে কইয়ো, নাইওর নিতো বইলা
তোরা কে যাস কে যাস

বছর খানি ঘুইরা গেল, গেল রে
ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না

কইলজা আমার পুইড়া গেল, গেল রে
ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না

ছিলাম রে কতই আশা লইয়া
ভাই না আইলো গেল গেল, রথের মেলা চইলা
তোরা কে যাস কে যাস

প্রাণ কান্দে , কান্দে
প্রান কান্দে কান্দে প্রান কান্দে রে, প্রান কান্দে
নয়ন ঝরে ঝরে নয়ন ঝরে রে, নয়ন ঝরে

পোড়া মনরে বুঝাইলে বুঝে না
কান্দে কান্দে প্রান কান্দে

সুজন মাঝিরে ভাইরে কইয়ো গিয়া
না আসিলে স্বপনেতে দেখা দিত বইলা
তোরা কে যাস কে যাস

সিঁন্দুরিয়া মেঘ উইড়া আইলো রে
ভাইয়ের খবর আনলো না, আনলো না

ভাটির চরে নৌকা ফিরা আইলো রে
ভাইয়ের খবর আনলো না, আনলো না

নির্দয় বিধি রে তুমিই সদয় হইয়া
ভাইরে আইনো নইলে আমার পরান যাবে জ্বইলা
তোরা কে যাস কে যাস

কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া
আমার ভাইধন রে কইয়ো, নাইওর নিতো বইলা
তোরা কে যাস কে যাস |

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১২

শোনোগো দখিনো হাওয়া প্রেম করেছি আমি



শোনোগো দখিনো হাওয়া প্রেম করেছি আমি 
লেগেছে চোখেতে নেশা দিক ভুলেছি আমি ||

মনেতে লুকানো ছিল সুপ্ত যে তিয়াসা
জাগিল মধু লগনেতে বাড়ালো পিয়াসা ||

উতলা করেছে মোরে আমারই ভালবাসা
অনুরাগে প্রেম সলিলে ডুব দিয়েছি আমি
শোনোগো মধুরো হাওয়া প্রেম করেছি আমি 

দহন বেলাতে আমি প্রেমেরো তাপসী
বরষাতে প্রেমো-ধারা শরতেরো শশী ||

রচিগো হেমন্তে মায়া শীতেতে উদাসী
হয়েছি বসন্তে আমি বাসনা বিলাসী

শোনোগো মদিরো হাওয়া প্রেম করেছি আমি 
লেগেছে চোখেতে নেশা দিক ভুলেছি আমি |


বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১২

আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে


আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে
আমি জনম ভরে একদিন দেখলাম না রে
লড়ে চড়ে ঈষাণ কোণে দেখতে পাই না এ নয়নে
হাতের কাছে যার ভবের হাট বাজার
ধরতে গেলে হাতে পাইনে তারে

সবে বলে প্রাণ পাখী  
      শুনে চুপে চুপে থাকি
জল কি হুতাশন মাটী কি পবন
কেউ বলেনা একটা নির্ণয় করে ...


আপন ঘরের খবর পাইনা 
     বাঞ্ছা করি পরকে চেনা
লালন বলে পর  পথে পরমেশ্বর
সে কেমন রূপ আমি কি কব রে ....


আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে
আমি জনম ভরে একদিন দেখলাম না রে...

                             কিরণ চন্দ্র রায় এর গাওয়া



সবে বলে ‘লালন ফকির হিন্দু কি যবন


সবে বলে ‘লালন ফকির হিন্দু কি যবন ...’
লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান,

একই ঘাটে আসা যাওয়া
            একই পাটনী দিচ্ছে খেয়া
কেউ খায়না কারো ছোঁয়া
           বিভিন্ন জল কে কোথা পায়?


বেদ পুরান করেছে জারি
              যবনের সাঁই হিন্দুর হরি
লালন বলে বুঝতে না’রি
            এরূপ সৃষ্টি করলেন
                 কি রূপ প্রমাণ ...



বিবিদের নাই মোসলমানী
         পৈতা নাই যার সে’ও বাম্‌নী
বোঝারে রে ভাই দীব্য জ্ঞানী
     লালন তেমনি ফাতনার জাতে টান।।

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১২

সখী কুঞ্জ সাজাও গো. আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে


বন্ধে মায়া লাগাইছে,পিরিতি শিখাইছে


বন্ধে মায়া লাগাইছে,পিরিতি শিখাইছে
দেওয়ানা বানাইছে
কি যাদু করিয়া বন্ধে,মায়া লাগাইছে।

বসে ভাবি নিরালায়
আগেতো জানিনা বন্ধের পিরিতের জালায়
যেমন ইটের ভাটায় কয়লা দিয়া আগুন জালাইছে।

আমি কি বলিব আর
বিচ্ছেদের আগুনে পুড়ে কলিজা আঙ্গার
প্রান বন্ধের পিরিতের নেশায় কুলমান গেছে।

বাউল আব্দুল করিম গায়
ভুলিতে পারিনা আমার মনে যারে চায়
কুলনাশা পিরিতের নেশায় কুলমান গেছে।


কেউ বলে শাহ আবদুল করিম কেউ বলে পাগল


কেউ বলে শাহ আবদুল করিম কেউ বলে পাগল। 
যার যা ইচ্ছা তাই বলে বুঝি না আসল নকল।।


জন্ম আমার সিলেট জেলায়
সুনামগঞ্জ মুহাকুমায়।।
বসত করি দিরায় থানায়।।
গায়ের নাম হয় উজানধল।


কেউ বলে শাহ আবদুল  করিম  কেউ বলে পাগল। 
যার যা ইচ্ছা তাই বলে বুঝি না আসল নকল।।

কালনী নদির উত্তর পাড়ে আছি এক কুড়ে ঘরে,
পোস্ট অফিস হয় ধলবাজারে ইউনিয়ন তাড়োল।


কেউ বলে শাহ আবদুল  করিম  কেউ বলে পাগল। 
যার যা ইচ্ছা তাই বলে বুঝি না আসল নকল।।

পিতার নাম ইব্রাহিম আলি
সোজা সরল আল্লাহর অলি
পীর মুরসিদের চরন ধুলি।।
করিমের সম্বল।

কেউ বলে শাহ আবদুল  করিম  কেউ বলে পাগল। 
যার যা ইচ্ছা তাই বলে বুঝি না আসল নকল।।


আইলায় না, আইলায় নারে


আইলায় না, আইলায় নারে 
বন্ধু করলায়রে দিওয়ানা
সূখ বশন্ত সূখের কালে
শান্তিতো দিলায় নারে 
বন্ধু আইলায় নারে।

অতি সাধের পিরিতরে বন্ধু
নাইরে যার তুলনা
দারুন বিচ্ছেদের জালা
আমি আগেতো জানি নাইরে 
বন্ধু আইলায় নারে।

গলে মোর কলংকের মালা
কেউ ভালবাসে না
কূল মান দিয়া কি করিব আমি 
তোমায় যদি পাই নারে
বন্ধু আইলায় নারে।

আব্দুল করিম কূল মান হারা
তুমি কি জানো না
সুসময়ে সুজন বন্ধু
দেখাতো দিলায় নারে
বন্ধু আইলায় নারে।

আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা


আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা
কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া ।।

না আসিলে কালো ভ্রমর
কে হবে যৌবনের দোসর?
সে বিনে মোর শূন্য বাসর আমি জিয়ন্তে মরা ।।

কুল-মানের আশা ছেড়ে
মন-প্রাণ দিয়াছি যারে
এখন সে কাঁদায় আমারে, এই কী তার প্রেমধারা ?

শুইলে স্বপনে দেখি
ঘুম ভাঙ্গিলে সবই ফাঁকি
কত ভাবে তারে ডাকি তবু সে দেয় না সাড়া ।।

আশা পথে চেয়ে থাকি
তারে পাইলে হব সুখি
এ করিমের মরণ বাকী, রইলো সে যে অধরা ।।

কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে


কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে,
ফুলে বাইলা ভোমরা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

সোয়া চন্দন ফুলের মালা,
সখিগণে লইয়া আইলা
কৃষ্ণ দিলায় রাধার গলে,
বাসর হইল উজালা
বাসর হইল উজালা গো,
বাসর হইলো উজালা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

কৃষ্ণ দিলায় রাধার গলে,
রাধায় দিলা কৃষ্ণর গলে
আনন্দে সখীগণ নাচে
দেখিয়া প্রেমের খেলা
দেখিয়া প্রেমের খেলা গো
দেখিয়া প্রেমের খেলা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

কৃষ্ণ প্রেমের প্রেমিক যারা,
নাচে গায় খেলে তারা
কুল ও মানের ভয় রাখে না,
ললিত ও আর বিশখা
ললিত ও আর বিশখা গো
ললিত ও আর বিশখা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২

কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা
হাওয়া দমে দেখ তারে আসল বেনা ।।

বিনা তেলে জ্বলে বাতি
দেখতে যেমন মুক্তা মতি
...জলক দেয় তার চতুর্ভিতি মধ্যে খানা ।।

তিল পরিমাণ জায়গা সে যে
হদ্দরূপ তাহার মাঝে
কালায় শোনে আঁধলায় দেখে নেংড়ার নাচনা ।।


যে গঠিল এ রঙমহল, না জানি তার রূপটি কেমন।
সিরাজ সাঁই কয় নাই রে লালন তার তুলনা।


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।।

হাওয়া দমে দেখ তারে আসল বেনা...
কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।।




আধার ঘরে জ্বলছে বাতি


কি সন্ধানে যাই সেখানে আমি মনের মানুষ যেখানে
আধার ঘরে জ্বলছে বাতি দিবা রাতি নাই সেখানে।।
যেতে পথে কাম নদীতে পারি দিতে ত্রিবিনে
কতো ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা পরে নদীর তোড় তুফানে।।
রসিক যারা চতুর তারা তারাই নদীর ধারা চেনে
উজান তরী যাচ্ছে বেয়ে তারাই স্বরূপ সাধন জানে।।
লালন বলে ম’লাম জ্বলে দিবানিশি জলে স্থলে
আমি মণি হারা ফণির মত হারা হইলাম পিতৃধনে।


শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

কে তাহারে চিনতে পারে


ভবে কে তাহারে চিনতে পারে
এসে মদীনায় তরীক জানায়
এ সংসারে।।
সবে বলে নবী নবী
নবী কি নিরঞ্জন ভাবি
দেল ঢুঁড়িলে জানতে পাবি
আহম্মদ নাম হল কারে।।
যার মর্ম সে যদি না কয়
কার সাধ্য কে জানিতে পায়
তাইতে আমার দীন দয়াময়
মানুষরূপে ঘোরে ফেরে।।
নফী এজবাত যে বোঝেনা
মিছেরে তার পড়াশুনা
লালন কয় ভেদ উপাসনা
না জেনে চটকে মারে।।

পাখি কখন জানি উড়ে যায়


পাখি কখন জানি উড়ে যায়
একটা বদ্ হাওয়া লেগে খাঁচায়

ভেবে অন্ত নাহি দেখি
কার বা খাঁচায় কে-বা পাখি।
আমার এই আঙ্গিনায় বসে
আমারে মজাতে চায়।

খাঁচার আড়া প'ল খসে
পাখি আর দাঁড়াবে কী সে?
আমি এই ভাবনা ভাবছি মিছে-
আমার চমকজ্বরা বইছে গায়।

আগে যদি যেত জানা
জংলা কভূ পোষ মানে না।
তা হলে হয় প্রেম করতাম না
লালন ফকির কেঁদে কয় ...

আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী


আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী?
ইতরপনা কার্য আমার অহর্নিশি।।
  জঠর যন্ত্রণা পেয়ে
 এলাম যে করার দিয়ে
 রইলাম তা সব ভুলিয়ে
  ভবে আসি।।
চিনলাম না সে গুরু কি ধন
জানলাম না তার সেবা সাধন
ঘুরতে বুঝি হল রে মন
চোরাশি।।
গুরু যার থাকে সদায়
শমন বলে তার কিসের ভয়
লালন বলে, মন তুই আমার
করলি দুষি।।

কে তোমার যাবে সাথে?



ও মন, কে তোমার যাবে সাথে?
কোথা রবে ভাই বন্ধু সব
              পড়বি যেদিন কালের হাতে।।
যে আশার আশায় আসা
হল না তার রতি মাসা
ঘটালি রে কি দুর্দশা
              কু-সঙ্গে কু-রঙ্গে মেতে।।
নিকাশের দায় করে খাড়া
মারবি আতশের কোড়া
সোজা করবে বেঁকাতেড়া
              জোর জবর খাটবে না তাতে।।
যারে ধরে পাবি নিস্তার
তারে সদায় ভাবিরে পর
সিরাজ সাঁই কয়, লালন তোমার
              সারে ভবের কুটুম্বিতে।।

আপন ঘরের খবর লে না


আপন ঘরের খবর লে না।
অনায়াসে দেখতে পাবি
            কোনখানে কার বারামখানা।।
কোমল ফোটা কারে বলি
কার মোকাম তার কোথায় গলি
কোন সময় পড়ে ফুলি
            মধু খায় সে অলি জনা।।
অন্য জ্ঞান যার সখ্য মোক্ষ
সাধক উপলক্ষ
অপরূপ তার বৃক্ষ
            দেখলে চক্ষের পাপ থাকে না।।
শুষ্ক নদীর শুষ্ক সরোবর
তিলে তিলে হয় গো সাঁতার
লালন কয়, কৃতি-কর্মার
            কি কারখানা।।

জলে গিয়াছিলাম সই


বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১২

কোন মেস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়


কোন মেস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

চন্দ্র-সূর্য বান্ধা আছে নাওয়েরই আগায়
দূরবীনে দেখিয়া পথ মাঝি-মাল্লায় বায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

রঙ-বেরঙের যতো নৌকা ভবের তলায় আয়
রঙ-বেরঙের সারি গাইয়া ভাটি বাইয়া যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

জারি গায়ে ভাটি বায়ে করতাল বাজায়
মদন মাঝি বড়ই পাজি কতো নাও ডুবায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

হারা-জিতা-ছুবের বেলা কার পানে কে চায়
পাছের মাঝি হাল ধরিয়ো ঈমানের বৈঠায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

বাউল আব্দুল করিম বলে বুঝে উঠা দায়
কোথা হইতে আসে নৌকা কোথায় চলে যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।


তুমি বিনে আকুল পরাণ


তুমি বিনে আকুল পরাণ
থাকতে চায় না ঘরে রে
সোনা বন্ধু ভুইলো না আমারে

আমি এই মিনতি করি রে
...এই মিনতি করি রে
সোনা বন্ধু ভুইলো না আমারে

সাগরে ভাসাইয়া কুল-মান
তোমারে সঁপিয়া দিলাম আমার
দেহ-মন-প্রাণ
সর্বস্ব ধন করিলাম দান
তোমার চরণের তরে
সোনা বন্ধু ভুইলো না আমারে

আমারে ছাড়িয়া যদি যাও
প্রতিজ্ঞা করিয়া বলো
আমার মাথা খাও
তুমি যদি আমায় কান্দাও
...তুমি যদি আমায় কান্দাও
তোমার কান্দন পরে রে
সোনা বন্ধু ভুইলো না আমারে

আমি এই মিনতি করি রে
এই মিনতি করি রে
সোনা বন্ধু ভুইলো না আমারে

কুল-মান গেলে ক্ষতি নাই আমার
তুমি বিনে প্রাণ বাঁচেনা
কি করিব আর?
তোমার প্রেম-সাগরে
প্রেম-সাগরে তোমার করিম যেন ডুবে মরে
সোনা বন্ধু ভুইলো না আমারে

আমি এই মিনতি করি রে
এই মিনতি করি রে
সোনা বন্ধু ভুইলো না আমারে


কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু


কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু
ছেড়ে যাইবা যদি
কেমনে রাখবি তোর মন
কেমনে রাখবি তোর মন
আমার আপন ঘরে বাধিরে বন্ধু
—- ছেড়ে যাইবা যদি

পাড়া পড়শী বাদী আমার
বাদী কাল ননদী
মরম জ্বালা সইতে নারি
দিবা নিশি কাঁদিরে বন্ধু
—- ছেড়ে যাইবা যদি

কারে কী বলিব আমি
নিজেই অপরাধী
কেঁদে কেঁদে চোখের জলে
কেঁদে কেঁদে চোখের জলে
বহাইলাম নদী রে বন্ধু
—- ছেড়ে যাইবা যদি

পাগল আব্দুল করিম বলে
হলো এ কী ব্যাধি
তুমি বিনে এ ভুবনে
তুমি বিনে এ ভুবনে
কে আছে আছে ঔষধি রে বন্ধু
—- ছেড়ে যাইবা যদি

গান গাই আমার মনরে বুঝাই


গান গাই আমার মনরে বুঝাই
মন থাকে পাগলপারা
আর কিছু চায়না মনে গান ছাড়া ।।

গানে বন্ধুরে ডাকি গানে প্রেমের ছবি আঁকি
পাব বলে আশা রাখি না পাইলে যাব মারা
আর কিছু চায়না মনে গান ছাড়া ।।

গান আমার জপমালা গানে খুলে প্রেমের তালা
প্রাণ বন্ধু চিকন কালা অন্তরে দেয় ইশারা
আর কিছু চায়না মনে গান ছাড়া ।।

ভাবে করিম দ্বীনহীন আসবে কি আর শুভদিন
জল ছাড়া কি বাঁচিবে মীন ডুবলে কি ভাসে মরা
আর কিছু চায়না মনে গান ছাড়া ।।

আগের বাহাদুরি এখন গেল কই


আগের বাহাদুরি এখন গেল কই
চলিতে চরণ চলেনা দিনে দিনে অবশ হই
আগের বাহাদুরি এখন গেল কই ।।

মাথায় চুল পাকিতেছে মুখের দাঁত নড়ে গেছে
চোখের জ্যোতি কমেছে মনে ভাবি চশমা লই।।
মন চলেনা রঙ তামাশায় আলস্য এসেছে দেহায়
কথা বলতে ভুল পড়ে যায় মধ্যে মধ্যে আটক হই
আগের বাহাদুরি এখন গেল কই ।।

কমিতেছি তিলে তিলে ছেলেরা মুরুব্বী বলে
ভবের জনম গেল বিফলে এখন সেই ভাবনায় রই
আগের মত খাওয়া যায়না বেশি খাইলে হজম হয়না
আগের মত কথা কয়না নাচেনা রঙের বারুই
আগের বাহাদুরি এখন গেল কই ।।

ছেলেবেলা ভাল ছিলাম বড় হয়ে দায় ঠেকিলাম
সময়ের মূল্য না দিলাম তাইতো জবাবদিহি হই
যা হবার তা হয়ে গেছে আব্দুল করিম ভাবিতেছে
এমন একদিন সামনে আছে একেবারে করবে সই
আগের বাহাদুরি এখন গেল কই ।।

দুঃখে গেল কাল


তোরা শোন গো নিরব


কৃষ্ণ আমার আঙিনাতে আইতে মানা করি


কৃষ্ণ আমার আঙিনাতে আইতে মানা করি।
মান ছাড় কিশোরী।
যাও যাও রসরাজ, এইখানে নাহি কাজ
যাওগি তোমার চন্দ্রাবলীর বাড়ি।
চন্দ্রাবলীর বাসরেতে সারারাত পোহাইলার রঙ্গে
এখন বুঝি আইছ আমার মন রাখিবারে।
ভাবিয়া রাধারমণ বলে দয়ানি করিবে মোরে
কেওড় খোলো রাধিকা সুন্দরী।

মান ভাঙ রাই কমলিনি চাও গো নয়ন তুলিয়া


মান ভাঙ রাই কমলিনি চাও গো নয়ন তুলিয়া
কিঞ্চিত দোষের দোষী আমি চন্দ্রার কুঞ্জে গিয়া।
এক দিবসে রঙে ঢঙে গেছলাম রাধার কুঞ্জে
সেই কথাটি হাসি হাসি কইলাম তোমার কাছে।
আরেক দিবস গিয়া খাইলাম চিড়া পানের বিড়া
আর যদি যাই চন্দ্রার কুঞ্জে দেওগো মাথার কিরা।
হস্তবুলি মাথে গো দিলাম তবু যদি না মান
আর কতদিন গেছি গো রাধে সাক্ষী প্রমাণ আন।
নিক্তি আন ওজন কর দন্দলে বসাইয়া
অল্প বয়সের বন্ধু তুমি মাতি না ডরাইয়া।
ভাইরে রাধামরণ বলে মনেতে ভাবিয়া
আইজ অবধি কৃষ্ণনাম দিলাম গো ছাড়িয়া।

শ্যামল বরণ রূপে মন নিল হরিয়া


শ্যামল বরণ রূপে মন নিল হরিয়া
কুক্ষণে গো গিয়াছিলাম জলের লাগিয়া
কারো নিষেধ না মানিয়া সখি গো ।।
আবার আমি জলে যাব ভরা জল ফেলিয়া
জল লইয়া গৃহে আইলাম প্রাণটি বান্ধা থুইয়া
আইলাম শুধু দেহ লইয়া সখি গো ।।
কি বলব সই রূপের কথা শোন মন দিয়া
বিজলি চটকের মতো সে যে রইয়াছে দাঁড়াইয়া
আমার বাঁকা শ্যাম কালিয়া সখি গো ।।
ভাইবে রাধারমণ বলে মনেতে ভাবিয়া
মনে লয় তার সঙ্গে যাইতাম ঘরের বাহির হইয়া
আমি না আসব ফিরিয়া সখি গো ।।

প্রাণ সখিরে ঐ শোন কদম্বতলে বাঁশি বাজায় কে



প্রাণ সখিরে
ঐ শোন কদম্বতলে বাঁশি বাজায় কে।
বাঁশি বাজায় কে রে সখি, বাঁশি বাজায় কে ॥
এগো নাম ধরিয়া বাজায় বাঁশি, তারে আনিয়া দে।
অষ্ট আঙ্গুল বাঁশের বাঁশি, মধ্যে মধ্যে ছেদা
নাম ধরিয়া বাজায় বাঁশি, কলঙ্কিনী রাধা ॥
কোন বা ঝাড়ের বাঁশের বাঁশি, ঝাড়ের লাগাল পাই।
জড়ে পেড়ে উগরাইয়া, সায়রে ভাসাই ॥
ভাইবে রাধারমণ বলে, শুন গো ধনি রাই।
জলে গেলে হবে দেখা, ঠাকুর কানাই ॥

বিনয় করি গো প্রিয় আয় আয় রে


বিনয় করি গো প্রিয় আয় আয় রে
বিচ্ছেদের অনলে সদাই অঙ্গ জ্বলে
বিনয় করি গো প্রিয় আয় আয় রে

তোমারও তাড়না শরীরে সহে না
সহজ অবলা এ মন
বন্ধু বন্ধু বলে ঝাঁপিবো ঐ জলে
বিনয় করি গো প্রিয় আয় আয় রে

আগে না জানিয়া প্রেমেতে মজিয়া
কাঁন্দিয়া জনমও গেলো
দিয়া প্রেমের জ্বালা
হারাইলো এই বেলা
কোথায় লুকাইলি প্রিয় আয় আয়রে
বিনয় করি গো প্রিয় আয় আয় রে

শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুরে


শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুরে, ও বন্ধু
নিরলে তোমারে পাইলাম না, বন্ধু নিরলে তোমারে পাইলাম না।

ওই আমার মনে যত দুখঃ ছিলরে, বন্ধু
খুলিয়া কইলাম নারে বন্ধুরে, বন্ধু নিরলে তোমারে পাইলাম না,
শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুরে,
নিরলে তোমারে পাইলাম না, বন্ধু নিরলে তোমারে পাইলাম না।

ফুলের আসন ফুলের বসনরে,
আরে ও বন্ধু ফুলেরই বিছানা॥
হৃদকমলে শোয়াচন্দন ছিটাইয়া দিলাম না,
ও তোমার  হৃদকমলে শোয়াচন্দন ছিটাইয়া দিলাম না।
শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুরে,
নিরলে তোমারে পাইলাম না, বন্ধু নিরলে তোমারে পাইলাম না।

ক্ষীর ক্ষীরিয়া মাখন ছানারে,
আরে ও বন্ধু রসের ও কমলা।।
দুইও হস্তে চান্দো মুখেরে বন্ধু তুলিয়া দিলাম নারে বন্ধু
ওই আমার দুইও হস্তে চান্দো মুখেরে বন্ধু তুলিয়া দিলাম নারে,
বন্ধু নিরলে তোমারে পাইলাম না।

ভাইবে রাধারমন বলেরে আরে ওবন্ধু
মনে যেই বাসনা।।
তোমারও প্রিরিতে আমাইরে ওবন্ধু নইররিশা কইরো না।
ওরে তোমারও প্রিরিতে আমাইরে ওবন্ধু নইররিশা কইরো না।।

ওই আমার মনে যত দুখঃ ছিলরে, বন্ধু
খুলিয়া কইলাম নারে বন্ধুরে, বন্ধু নিরলে তোমারে পাইলাম না,
শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুরে, ও বন্ধু
নিরলে তোমারে পাইলাম না, বন্ধু নিরলে তোমারে পাইলাম না।




পিরিতি বিষম জ্বালা, সয় না আমার গায়


পিরিতি বিষম জ্বালা, সয় না আমার গায়
কুল নিল গো শ্যামের বাঁশি প্রাণ নিল কালায় |
ঘরে বাইরে থাকে বন্ধু ওই পিরিতের দায়,
কুল নিল গো শ্যামের বাঁশি প্রাণ নিল কালায় |
কালা তো সামান্য নয়,রাধার মন ভুলায়,
কুল নিল গো শ্যামের বাঁশি প্রাণ নিল কালায় |
ভাইবে রাধারমণ বলে শোন গো ললিতায় ||
কুল নিল গো শ্যামের বাঁশি প্রাণ নিল কালায় | |

পিরিতি বিষম জ্বালা, সয় না আমার গায় 
কুল নিল | গো শ্যামের বাঁশি প্রাণ নিল কালায় | 

প্রাণ সখিরে


প্রাণ সখিরে
ঐ শোন কদম্ব তলে বংশী বাজায় কে
বংশী বাজায় কে রে সখী
বংশী বাজায় কে
আমার মাথার বেনী বদল দেব
তারে আইনা দে
যে পথ দিয়ে বাজায় বাঁশি
যে পথ দিয়ে যায়
সোনার নুপূর পরে পায়
আমার নাকের বেতর খুইলা দেব
সেই না পথের দায়
আমার গলার হার ছড়িয়ে দেব
সেই না পথের দায়
যদি হার জড়িয়ে পড়ে পায়
যার
জানিস যদি বল
সখি করিস নাকো ছল
আমার মন বড় চঞ্চল
আমার প্রাণ বলে তার বাতি গানে
আমার চোখের জল
আমার মন বলে তার বাতি গানে
আমার চোখের জল
সরলা মাঠের _
নাম ধরিয়া বাজায় বাঁশি
রহনও না যায়
ঘরে রহনও না যায়


অন্তরে তুষেরই অনল


কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া ।
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া ।।
ঘর বাঁধলাম প্রাণবন্ধের সনে কত কথা ছিল মনে গো ।
ভাঙ্গিল আদরের জোড়া কোন জন বাদী হইয়া ।।
কার ফলন্ত গাছ উখারিলাম কারে পুত্রশোকে গালি দিলাম গো ।
না জানি কোন অভিশাপে এমন গেল হইয়া ।।
কথা ছিল সঙ্গে নিব সঙ্গে আমায় নাহি নিল গো ।
রাধারমণ ভবে রইল জিতে মরা হইয়া ।।

বসন্ত বাতাসে সইগো


বসন্ত বাতাসে সইগো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে


বন্ধুর বাড়ির ফুলবাগানে
নানান রঙের ফুল
ফুলের গন্ধে মন আনন্দে
ভ্রমর হয় আকুল


বন্ধুর বাড়ির ফুলের বন
বাড়ির পূর্বধারে
সেথায় বসে বাজায় বাঁশী
মন নিল তার সুরে


মন নিল তার বাঁশীর তানে
রূপে নিল আঁখী
তাইতো পাগল আব্দুল করিম
আশায় চেয়ে থাকে


বসন্ত বাতাসে সইগো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে

বসন্ত বাতাসে সইগো
বসন্ত বাতাসে॥



এই ছোট মেয়েটার গাওয়া গানটা সব থেকে বেশি ভাল লেগেছে। 

আমার হাড় কালা করলাম রে



আমার হাড় কালা করলাম রে
আরে আমার দেহ কালার লাইগারে
ওরে অন্তর কালা করলাম রে
দুরন্ত পরবাসে ||


ও মনো রে
হাইল্যা লকের লাঙ্গল বাকাঁ
জনম বাকাঁ চাদঁ রে||
তার চাইতে অধিক বাকাঁ হায় হায়
যারে দিছি প্রাণ রে
দুরন্ত পরবাসে

আমার হাড় কালা করলাম রে
আরে আমার দেহ কালার লাইগারে
ওরে অন্তর কালা করলাম রে
দুরন্ত পরবাসে ||

মনো রে
কূল বাকাঁ গাঙ বাকাঁ
বাকাঁ গাঙের পানি রে ||
সকল বাকাঁয় বায়লাম নৌকা হায় হায়
তবু বাকাঁ রে না জানি
দুরন্ত পরবাসে


আমার হাড় কালা করলাম রে
আরে আমার দেহ কালার লাইগারে
ওরে অন্তর কালা করলাম রে
দুরন্ত পরবাসে ||


মনো রে
হাড় হইলো জড়োজড়ো
আমার অন্তর হইল পোড়া রে ||
পিড়িতি ভাঙ্গিয়া গেলে হায় হায়
নাহি লাগে জোড়া রে
দুরন্ত পরবাসে


আমার হাড় কালা করলাম রে
আরে আমার দেহ কালার লাইগারে
ওরে অন্তর কালা করলাম রে
দুরন্ত পরবাসে ||

গাড়ি চলে না চলে না


গাড়ি চলে না চলে না,
চলে না রে, গাড়ি চলে না।
চড়িয়া মানব গাড়ি
যাইতেছিলাম বন্ধুর বাড়ি
মধ্য পথে ঠেকলো গাড়ি
উপায়-বুদ্ধি মেলে না।।

মহাজনে যতন করে
তেল দিয়াছে টাংকি ভরে
গাড়ি চালায় মন ড্রাইভারে
ভালো-মন্দ বোঝে না।।

ইঞ্জিনে ময়লা জমেছে
পার্টসগুলো ক্ষয় হয়েছে
ডাইনামো বিকল হয়েছে
হেডলাইট দুইটা জ্বলে না।।

ইঞ্জিনে ব্যতিক্রম করে
কন্ডিশন ভালো নয় রে
কখন জানি ব্রেক ফেল করে
ঘটায় কোন্‌ দুর্ঘটনা।।

আবুল করিম ভাবছে এইবার
কোন্‌ দিন গাড়ি কি করবে আর
সামনে বিষম অন্ধকার
করতেছে তাই ভাবনা।।

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম


আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম


হিন্দু বাড়িতে যাত্রা গান হইত
নিমন্ত্রণ দিত আমরা যাইতাম
জারি গান, বাউল গান
আনন্দের তুফান
গাইয়া সারি গান নৌকা দৌড়াইতাম


বর্ষা যখন হইত,
গাজির গান আইত,
রংগে ঢংগে গাইত
আনন্দ পাইতাম
কে হবে মেম্বার,
কে বা সরকার
আমরা কি তার খবরও লইতাম
হায়রে আমরা কি তার খবরও লইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম


করি যে ভাবনা
সেই দিন আর পাব নাহ
ছিল বাসনা সুখি হইতাম
দিন হইতে দিন
আসে যে কঠিন
করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম….

ভ্রমর কইয়ো গিয়া


ভ্রমর কইও গিয়া
শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদের অনলে
অঙ্গ যায় জ্বলিয়ারে
ভ্রমর কইও গিয়া

কইও কইও কইওরে ভ্রমর
কৃষ্ণরে বুঝাইয়া
মুই রাধা মইরা যামুরে
কৃষ্ণহারা হইয়া রে
ভ্রমর কইও গিয়া

ভ্রমররে…
আগে যদি জানতাম রে ভ্রমর
যাইবা রে ছাড়িয়া
মাথার কেশর দুইভাগ কইরা
রাখিতাম বান্ধিয়া রে
ভ্রমর কইও গিয়া

ভ্রমররে…
ভাইবে রাধারমণ বলে
শোন রে কালিয়া
নিভা ছিল মনের আগুন
কী দিলা জ্বালাইয়া রে
ভ্রমর কইও গিয়া


আমার সোনার ময়না পাখি

আমার সোনার ময়না পাখি
কোন দেশেতে গেলা উইড়া রে
দিয়া মোরে ফাঁকি রে
আমার সোনার ময়না পাখি ।।

সোনা বরণ পাখিরে আমার
কাজল বরণ আঁখি
দিবানিশি মন চায়রে
বাইন্ধা তরে রাখি রে
আমার সোনার ময়না পাখি ।।

দেহ দিছি প্রাণরে দিছি
আর নাই কিছু বাকী
শত ফুলের বাসন দিয়ারে
অঙে দিছি মাখি রে
আমার সোনার ময়না পাখি ।।

যাইবা যদি নিঠুর পাখি
ভাসাইয়া মোর আঁখি
এ জীবন যাবার কালে রে
ও পাখি রে
একবার যেন দেখি রে
আমার সোনার ময়না পাখি ।।

আমি কুলহারা কলঙ্কিনী



আমি কুলহারা কলঙ্কিনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী

প্রেম করে প্রাণবন্ধুর সনে
যে দুঃখ পেয়েছি মনে
আমার কেঁদে যায় দিন-রজনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী

প্রেম করা যে স্বর্গের খেলা
বিচ্ছেদে হয় নরক জ্বালা
আমার মন জানে, আমি জানি
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী

সখি আমায় উপায় বলনা?
এ জীবনে দূর হলনা
বাউল করিমের পেরেশানি
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী


রবিবার, ১১ মার্চ, ২০১২

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা


তোমার ঘরে বাস করে কারা
ও মন জান না,
তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা,
মন জান না

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা

এক জনায় ছবি আঁকে এক মনে,
ও রে মন
আরেক জনায় বসে বসে র ংমাখে
ও আবার সেই ছবিখান নষ্ট করে
কোন জনা,কোন জনা

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা

এক জনায় সুর তোলে এক তারে,
ও মন, আরেক জন মন্দিরাতে তাল তোলে
ও আবার বেসুরো সুর ধরে দেখো
কোন জনা, কোন জনা

তোমর ঘরে বসত করে কয় জনা

রস খাইয়া হইয়া মাত, ঐ দেখো
হাত ফসকে যায় ঘোড়ার লাগাম
সেই লাগাম খানা ধরে দেখো
কোন জনা, কোন জনা

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা

- গীতিকার ও সুরকার জাহিদুল ইসলাম


দেখ না মন, ঝকমারি এই দুনিয়াদারী


দেখ না মন, ঝকমারি এই দুনিয়াদারী।
আচ্ছা মজা কপনি-ধ্বজা উড়ালে ফকিরী।।
            যা কর তা কর রে মন,
            তোর পিছের কথা রেখে স্মরণ;
            বরাবরই (ও তার) পিছে পিছে ঘুরছে শমন,
                        কখন হাতে দিবে দড়ি।।
            (তখন) দরদের ভাই বন্ধুজনা,
            সঙ্গে তোমার কেউ যাবে না;
            মন তোমারি, তারা একা পথে খালি আতে
                        বিদায় দিবে তোমারি।।
            বড় আশার বাসাখানি
            কোথায় পড়ে রবে মন তোর ঠিক না জানি;
            সিরাজ সাঁই কয়, লালন ভেরো
                        তুই করিস্‌ নে কার এন্‌তাজারি।।


তিন পাগলে হইল মেলা নইদে এসে


তিন পাগলে হইল মেলা নইদে এসে
ওরে মন নইদে এসে
তোরা কেউ যাইসনে ও পাগলের কাছে 

একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে দৌড়ে গিয়ে
আবার হরি বলে পড়ছে ঢইলে ধূলার মাঝে
ওরে মন ধূলার মাঝে
তোরা কেউ যাইসনে ও পাগলের কাছে 

একটা নারকোলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা করম দোষে
পাগলের সঙ্গে যাবি পাগল হবি বুঝবি শেষে
ওরে মন বুঝবি শেষে
তোরা কেউ যাইসনে ও পাগলের কাছে 

পাগলের নামটি এমন
বলিতে ফকির লালন হয় তরাইসে
চৈতেনিতে অদয় পাগল নাম ধরে সে
ওরে মন নাম ধরে সে
তোরা কেউ যাইসনে ও পাগলের কাছে


মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি



মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি ।
মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই মূল হারাবি ।। 
এই মানুষে মানুষ গাঁথা
গাছে যেমন আলেক-লতা
জেনে শুনে মুড়াও মাথা
ও মন যাতে তরবি ।।
দ্বিদলের মৃণালে
সোনার মানুষ উজলে
মানুষগুরু নিষ্ঠা হলে
তবে জানতে পাবি ।। 
এই মানুষ ছাড়া মন আমার
পড়বি রে তুই শূন্যাকার
লালন বলে মানুষ আকার
ভজলে তারে পাবি ।।


ক্ষ্যাপা তুই না জেনে তোর আপন খবর যাবি কোথায়


ক্ষ্যাপা তুই না জেনে তোর আপন খবর যাবি কোথায়।
আপন ঘর না বুঝে বাহিরে খুঁজে পড়বি ধাঁধায়।।
             আমি সত্য না হইলে
             হয় গুরু সত্য কোন কাজে
আমি যেরূপ দেখ না সেরূপ দীন দয়াময়।।
             আত্মরূপে সেই অ-ধর
             সঙ্গী অংশে কলা তার
ভেদ না জেনে বনে বনে ফিরিলে কি হয়।।
             আপনার আপনি না চিনে
             ঘুরবি কত ভুবনে
লালন বলে, অন্তিম কালে নাই রে উপায়।।



মন আমার দেহ ঘড়ি


একটি চাবি মাইরা দিলা ছাইড়া
জনম ভইরা চলিতেছে
মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি 
কোন মিস্তরী বানাইয়াছে

থাকের(মাটির) একখান কেস বানাইয়া মেশিন দিল তার ভিতর
ওরে রং বেরং এর বার্নিশ করা দেখতে ঘড়ি কি সোন্দর
ঘড়ির তিন পাটে তে গড়ন সারা
এই বয়লারের মেশিনের গড়া
তিনশো ষাটটি স্ক্রুপ মারা, ষোলজন পাহারা আছে 

ঘড়ি হাইস্পিডিং ফ্যাপসা পেচিং লিভার হইলো কলিজায়
ছয়টি বলে আজব কলে দিবানিশি প্রেম খেলায়
ঘড়ির তিন কাঁটা বারো জুয়েলে, মিনিট কাঁটা হইল দিলে
ঘন্টার কাটা হয় আক্কেলে, মনটারে সেকেন্টে দিসে

ঘড়ির কেসটা ৩২ চাকের, কলে কব্জা বেসুমার
দুইশ ছয়টা হাড়ের জোড়া বাহাত্তর হাজার তার
ও মন, দেহঘড়ি চৌদ্দতলা, তার ভিতরে দশটি নালা,
একটা বন্ধ নয়টা খোলা গোপনে এক তালা আছে। 

দেখতে যদি হয় বাসনা চলে যাও ঘড়ির কাছে
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে ঘড়ির ভেতর লুকাইছে 
পদর্ারও সত্তুর হাজারে
তার ভিতলে লড়ে চড়ে
জ্ঞান নয়ন ফুটলে পরে দেখতে পারবেন চোখের কাছে;
ওস্তাদ আলাউদ্দিনে ভেবে বলছেন,
ওরে আমার মনবোকা;
বাউল রহমান মিয়ার কর্মদোষে হইল না ঘড়ির দেখা

আমি যদি ঘড়ি চিনতে পারতাম,
ঘড়ির জুয়েল বদলাইতাম,
ঘড়ির জুয়েল বদলাইবো
কেমন যাই মিস্ত্ররীর কাছে?

মন আমার দেহঘড়ি
সন্ধান করি, কোন মিস্ত্রী বানাইছে


আমি অপার হয়ে বসে আছি


আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।
আমি একা রইলাম ঘাটে
ভানু সে বসিল পাটে-
(আমি) তোমা বিনে ঘোর সংকটে
না দেখি উপায়।।
নাই আমার ভজন-সাধন
চিরদিন কুপথে গমন-
নাম শুনেছি পতিত-পাবন
তাইতে দিই দোহাই।।
অগতির না দিলে গতি
ঐ নামে রবে অখ্যাতি-
লালন কয়, অকুলের পতি
কে বলবে তোমায়।।

আমি ঐ চরণে দাসের যোগ্য নই


আমি ঐ চরণে দাসের যোগ্য নই।
নইলে মোর দশা কি এমন হয়।।
ভাব জানিনে প্রেম জানিনে দাসী হতে চাই চরণে।
ভাব দিয়ে ভাব নিলে মনে সেই সে রাঙ্গা চরণ পায়।।
নিজগুনে পদারবিন্দু দেন যদি সাঁই দীনবন্ধু
... তবে তরি ভবসিন্ধু নইলে না দেখি উপায়।।
অহল্যা পাষানী ছিলো প্রভুর চরণ ধূলায় মানব হলো।
লালন পথে পড়ে রইলো যা করে সাঁই দয়াময়।।

মন তুমি সহজে কি সই হবা


মন তুমি সহজে কি সই হবা
ভাবার ঘরে মুগুর প'লে
সেই দিনে গা টের পাবা
চিরদিন ইচ্ছা মনে তুমি
আইল ড্যাঙাইয়া ঘাস খাবা
বাহার তো গেল চলে
পথে যাও ঠ্যালা পেলে
কোনদিন পাতাল ধাবা
তবু তোমার যায় না এবার
ট্যারা চলন বদ-লোভা
সুখের আশা থাকলে মনে
দুখের ভার নিদানে
অবশ্য মাথায় নিবা
ইল্লতে স্বভাব হলে
পানিতে যায় না ধুলে
খাসলতি কিসে ধুবা
ফকির লালন বলে, হিসাব কালে
সকল ফিকির হারাবা

কে কথা কয়-রে দেখা দেয়না


কে কথা কয়-রে দেখা দেয়না
হাতের কাছে নড়েচরে খুঁজলে জনম্‌ভর মেলেনা ...!

খুঁজি তারে আসমান-জমিন, আমারে চিনিনা আমি
এ-কী ভীষম ভুলে-ভ্রমি - আমি কোন-জন সে কোন-জনা?

হাতের কাছে নড়েচরে - খুঁজলে জমনভর মেলেনা ..

রাম রহিম বলছে যে জন, ক্ষিতি কি পবন জল কি হুতাশন। 
সুধাইলে তার অন্বেষণ মুর্খ দেখে কেউ বলেনা! 

হাতের কাছে হয় না খবর, কি দেখতে যাও দিল্লি লাহোর?
সিরাজ শা'য় কয় লালন রে তর সদাই মনের ভ্রম গেলো না।

হাতের কাছে নড়েচরে - খুঁজলে জমনভর মেলেনা ..

এ বড় আজব কুদরতি


এ বড় আজব কুদরতি
আঠার মোকামের মাঝে
জ্বলছে একটি রূপের বাতি
কিবা রে কুদরতি খেলা
জলের মাঝে অগ্নি-জ্বালা
খবর জানতে হয় নিরালা
নীরে ক্ষীরে আছে জ্যোতি
ফণিমনি লাল জহরে
সে বাতি রেখেছে ঘিরে
তিন সময় তিন যোগ সেই ঘরে
যে জানে সে মহারতি
থাকতে বাতি উজালাময়
দেখতে যার বাসনা হৃদয়
লালন কয়, কখন কোন সময়
অন্ধকার হবে বসতি


চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি


চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি
ভেদ-পরিচয় দেয় না আমায় ঐ খেদে ঝরে আঁখি।।
পাখি বুলি বলে শুনতে পাই রূপ কেমন দেখিনা ভাই
বিষম ঘোর দেখি।
চেনাল পেলে চিনে নিতাম যেতো মনের ধুকধুকি।।
পোষা পাখি চিনলাম না এ লজ্জা তো যাবে না উপায় কি করি!
কোন দিন জানি যাবে উড়ে ধুলো দিয়ে দুই চোখই।।
নয় দরজা খাঁচাতে যায় আসে পাখি কোন পথে
চোখে দিয়ে রে ভেল্কি।
সিরাজ সাঁই কয় বয় লালন বয় ফাঁদ পেতে ঐ সিঁদমুখী।


সময় গেলে সাধন হবে না


সময় গেলে সাধন হবে না
দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধন হবে না

(জানো না মন খালে বিলে
থাকে না মিল জল শুকালে)
কি হবে আর বাধন দিলে
মোহনা শুকনা থাকে, মোহনা শুকনা থাকে, মোহনা শুকনা
সময় গেলে সাধন হবে না
সময় গেলে সাধন হবে না

অসময়ে কৃষি করে মিছে মিছি খেটে মরে
গাছ যদি হয় বীজের জোরে ফল ধরে না
তাতে ফল ধরে না, ফল ধরে না, তাতে ফল ধরে না
সময় গেলে সাধন হবে না

অমাবস্যায় পূর্নিমা হয়
মহা জোগ সে দিনের উদয়
লালোন বলে তাহার সময়
দনডোমো রয় না, দনডোমো রয় না
সময় গেলে সাধন হবে না

দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
সময় গেলে সাধোন হবে না


পরেছি এবার আমি ঘোর সাগরে


পরেছি এবার আমি ঘোর সাগরে 
পার কর দয়াল আমায় কেশে ধরে 

ছয়জনা মন্ত্রী সদাই অশেষ কুকান্ড বাধায় 
ডুবালি ঘাট আঘাটায় আজ আমারে 

আমি বা কার কে বা আমার 
বুঝে ও বুঝলামনা এবার 
অসার কে ভাবিয়ে সার পরলাম ফেরে! 

হারিয়ে সকল উপায়, শেষ কালে তোর দিলাম দোহাই 
লালন কয় দয়াল নাম সাঁই জানবো তোরে... 
পার কর দয়াল আমায় কেশে ধরে...!

পাপ পূণ্যের কথা আমি কারে বা শুধাই


পাপ পূণ্যের কথা আমি কারে বা শুধাই
একদেশে যা পাপ গণ্য
অন্য দেশে পূণ্য তাই।

তিব্বত নিয়ম অনুসারে, এক নারী বহু পতি ধরে
এই দেশে তা হলে পরে
ব্যভিচারী দণ্ড হয়।

শুকর গরু দুইটি পশু, খাইতে বলেছেন যীশু
তবে কেন মুসলমান হিন্দু
পিছেতে হঠায়।

দেশ সমস্যা অনুসারে, ভিন্ন বিধান হতেও পারে
সূক্ষ্ণ জ্ঞানের বিচার করলে
পাপপূণ্যের নাই বালাই।

পাপ হলে ভবে আসি, পূণ্য হলে স্বর্গবাসী
লালন বলে নাম উর্বশী
নিত্য নিত্য তাঁর প্রমাণ পাই।

পারে কে যাবি নবীর নৌকাতে আয়


পারে কে যাবি নবীর নৌকাতে আয়
রূপকষ্ঠের নৌকাখানি
নাই ডুবায় ভয়।।
বেহুঁশে নেয়ে যারা
তুফানে যাবে মারা
একই ধাক্কায়;
কি করবে বদর গাজী
থাকবে কোথায়।।
নবী না মানে যারা
মোয়াহেদ কাফের তারা
এই দুনিয়ায়;
ভজনে তার নাই মজুরী
দলিলে ছাপ দেখা যায়।।
যেহি মুর্শিদ নেই তো রাছুল
ইহাতে নেই কোন ভুল
খোদাও সে হয়;
লালন কয় না এমন কথা
কোরআনে কয়।।

কে কথা কয় রে দেখা দেয় না?


কে কথা কয় রে দেখা দেয় না?
নড়ে চড়ে হাতের কাছে
খুঁজলে জনমভর মেলে না।।
খুঁজি তারে আসমান জমিন
আমারে চিনি না আমি,
এ বিষম ভ্রমের ভ্রমি
আমি কোন্‌ জন, সে কোন্‌ জনা।।
হাতের কাছে হয় না খবর,
কি দেখতে যাও দিল্লির শহর!
সিরাজ সাঁই কয়, লালন রে তোর
সদাই মনের ঘোর গেল না।।

যেখানে সাঁর বারামখানা


যেখানে সাঁর বারামখানা
শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে-
দেখতে যেমন ভুজঙ্গনা।।
যা ছুঁইলে প্রাণে মরি
এ জগতে তাইতে তরি,
বুঝেও তা বুঝতে নারি
কীর্তিকর্মার কি কারখানা।।
আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে
দিব্যজ্ঞানী সেই হয়েছে,
কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে
আমার মনের ঘোর গেলো না।।
যে ধনের উৎপত্তি প্রাণধন
সেই ধনেরি হলো না যতন,
অকালের ফল পাকায় লালন
এই দুঃখের দোসর মিললো না।।

ধন্য ধন্য বলি তারে


ধন্য ধন্য বলি তারে
বেঁধেছে এমন ঘর
শূন্যের উপর ফটকা করে।।
সবে মাত্র একটি খুঁটি
খুঁটির গোড়ায় নাইকো মাটি,
কিসে ঘর রবে খাঁটি
ঝড়ি-তুফান এলে পরে।।
মূলাধার কুঠরি নয় টা
তার উপরে চিলে-কোঠা
তাহে এক পাগলা বেটা
বসে একা একেশ্বরে।।
উপর নীচে সারি সারি
সাড়ে নয় দরজা তারি
লালন কয় যেতে পারি
কোন্‌ দরজা খুলে ঘরে।।

চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি


   চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি
         ভেদ-পরিচয় দেয় না আমায়
(আমার) ঐ খেদে ঝুরে আঁখি।।
         বুলি বলে শুনতে পাই
         রূপ কেমন দেখিনা ভাই
(আমি) ভীষণ ঘোর দেখি
         চেনাল পেয়ে চিনে নিতাম
(আমার) যেতো মনের ধুকধুকি।।
         পোষা পাখি চিনলাম না
         এ লজ্জা তো যাবে না-
(আমি) উপায় কি করি!
         কোন দিনে-যে উড়ে যাবে
(আমার) ধুলো দিয়ে দুই চোখই।।

জাত গেল জাত গেল বলে


জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।
আসবার কালে কি জাত ছিলে
এসে তুমি কি জাত নিলে,
কি জাত হবা যাবার কালে
সে কথা ভেবে বল না।।
ব্রাহ্মণ চন্ডাল চামার মুচি
এক জলেই সব হয় গো শুচি,
দেখে শুনে হয় না রুচি
যমে তো কাকেও ছাড়বে না।।
গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়,
তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয়।
লালন বলে জাত কারে কয়
এ ভ্রম তো গেল না।।


পাবে সামান্যে কি তার দেখা!


   পাবে সামান্যে কি তার দেখা!
(ওরে) বেদে নাই যার রূপ-রেখা।।
           কেউ বলে, পরম মিষ্টি
           কারো না হইল দৃষ্টি
           বরাতে দুনিয়া সৃষ্টি
(ওরে) তাই নিয়ে লেখাজোখা।।
           নিরাকার ব্রহ্ম হয় সে
           সদাই ফেরে অচিন দেশে-
           দোসর তাই নাইকো পাশে,
(ওরে) ফেরে সে একা একা।।
           কিঞ্চিৎ ধ্যানে মহাদেব,
           সে তুলনা কি আর দেবো!
           লালন বলে, গুরু ভাবো
(তোমার) যাবে রে মনের ধোঁকা।।

মিলন হবে কত দিনে


মিলন হবে কত দিনে
   আমার মনের মানুষের সনে।।
   চাতক প্রায় অহর্নিশি
   চেয়ে আছি কালো শশী
   হব বলে চরণ-দাসী,
   ও তা হয় না কপাল-গুণে।।
   মেঘের বিদ্যুৎ মেঘেই যেমন
   লুকালে না পাই অন্বেষণ,
   কালারে হারায়ে তেমন
   ঐ রূপ হেরি এ দর্পণে।।
   যখন ও-রূপ স্মরণ হয়,
   থাকে না লোক-লজ্জার ভয়-
   লালন ফকির ভেবে বলে সদাই
(ঐ) প্রেম যে করে সে জানে।।

   

মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার


মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার (ভবে)
সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার।।

নদী কিংবা বিল বাঁওড় খাল,
সর্বস্থলে একই এক জল
একা মোর সাঁই ফেরে সর্বদাই,
মানুষ মিশিয়া হয় বিধান তার।।

নিরাকারে জ্যোতির্ময় যে,
আকার সাকার হয় না সে
দিব্যজ্ঞানী হয় তবে জানতে পায়,
কলি যুগের হলেন মানুষ অবতার।।

বহু তর্কে দিন বয়ে যায়,
বিশ্বাসে ধন নিকটে পায়
সিরাজ সাঁই ডেকে বলে লালনকে,
কুতর্কের দোকান সে করে না আর।। 

এসব দেখি কানার হাট বাজার


এসব দেখি কানার হাট বাজার
বেদ বিধির পর শাস্ত্র কানা
আর এক কানা মন আমার।

পণ্ডিত কানা অহংকারে
সাধু কানা অন বিচারে
মাতব্বর কানা চোগল খোরে
আন্দাজী এক খুঁট গেড়ে
চেনে না সীমানা কার।

এক কানা কয় আর এক কানারে
চল দেখি যায় ভবপারে
নিজে কানা পথ চেনে না
পরকে ডাকে বারে বার।

এক কানায় উলামিলা
বোবাতে খায় রসগোল্লা
লালন তেমনি মদনা কানা
ঘুমের ঘোরে দেয় বাহার।

Add