পৃষ্ঠাসমূহ

গান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো


কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো
আমি বুক চিড়িয়া ।
অন্তরে তুষেরই অনল
জ্বলে গইয়া গইয়া ।।

ঘর বাঁধলাম প্রাণবন্ধের সনে
কত কথা ছিল মনে গো ।
ভাঙ্গিল আদরের জোড়া
কোন জন বাদী হইয়া ।।

কার ফলন্ত গাছ উখারিলাম
কারে পুত্রশোকে গালি দিলাম গো ।
না জানি কোন অভিশাপে
এমন গেল হইয়া ।।

কথা ছিল সঙ্গে নিব
সঙ্গে আমায় নাহি নিল গো ।
রাধারমণ ভবে রইল
জিতে মরা হইয়া ।।


সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১২

এক ফুলে চার রঙ ধরেছে



এক ফুলে চার রঙ ধরেছে
সে ফুলে ভাব নগরে কি শোভা করেছে।।
কারণবারির মধ্যে সে ফুল ভেসে বেড়ায় একুল ওকূল
শ্বেতবরণ এক ভ্রমর ব্যাকুল সে ফুলের মধুর আশে ঘুরতেছে।
মূল ছাড়া সে ফুলের লতা ডাল ছাড়া তার আছে পাতা
এ বড় অকৈতব কথা
ফুলের ভাব কই কার কাছে।
ডুবে দেখ মন দেল-দরিয়ায়
যে ফুলে নবীর জন্ম হয়
সে ফুল তো সামান্য ফুল নয়,
লালন কয় যার মূল নাই দেশে।।


শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১২

কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া


কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া
আমার ভাইধন রে কইয়ো, নাইওর নিতো বইলা
তোরা কে যাস কে যাস

বছর খানি ঘুইরা গেল, গেল রে
ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না

কইলজা আমার পুইড়া গেল, গেল রে
ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না

ছিলাম রে কতই আশা লইয়া
ভাই না আইলো গেল গেল, রথের মেলা চইলা
তোরা কে যাস কে যাস

প্রাণ কান্দে , কান্দে
প্রান কান্দে কান্দে প্রান কান্দে রে, প্রান কান্দে
নয়ন ঝরে ঝরে নয়ন ঝরে রে, নয়ন ঝরে

পোড়া মনরে বুঝাইলে বুঝে না
কান্দে কান্দে প্রান কান্দে

সুজন মাঝিরে ভাইরে কইয়ো গিয়া
না আসিলে স্বপনেতে দেখা দিত বইলা
তোরা কে যাস কে যাস

সিঁন্দুরিয়া মেঘ উইড়া আইলো রে
ভাইয়ের খবর আনলো না, আনলো না

ভাটির চরে নৌকা ফিরা আইলো রে
ভাইয়ের খবর আনলো না, আনলো না

নির্দয় বিধি রে তুমিই সদয় হইয়া
ভাইরে আইনো নইলে আমার পরান যাবে জ্বইলা
তোরা কে যাস কে যাস

কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া
আমার ভাইধন রে কইয়ো, নাইওর নিতো বইলা
তোরা কে যাস কে যাস |

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১২

শোনোগো দখিনো হাওয়া প্রেম করেছি আমি



শোনোগো দখিনো হাওয়া প্রেম করেছি আমি 
লেগেছে চোখেতে নেশা দিক ভুলেছি আমি ||

মনেতে লুকানো ছিল সুপ্ত যে তিয়াসা
জাগিল মধু লগনেতে বাড়ালো পিয়াসা ||

উতলা করেছে মোরে আমারই ভালবাসা
অনুরাগে প্রেম সলিলে ডুব দিয়েছি আমি
শোনোগো মধুরো হাওয়া প্রেম করেছি আমি 

দহন বেলাতে আমি প্রেমেরো তাপসী
বরষাতে প্রেমো-ধারা শরতেরো শশী ||

রচিগো হেমন্তে মায়া শীতেতে উদাসী
হয়েছি বসন্তে আমি বাসনা বিলাসী

শোনোগো মদিরো হাওয়া প্রেম করেছি আমি 
লেগেছে চোখেতে নেশা দিক ভুলেছি আমি |


বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১২

আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে


আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে
আমি জনম ভরে একদিন দেখলাম না রে
লড়ে চড়ে ঈষাণ কোণে দেখতে পাই না এ নয়নে
হাতের কাছে যার ভবের হাট বাজার
ধরতে গেলে হাতে পাইনে তারে

সবে বলে প্রাণ পাখী  
      শুনে চুপে চুপে থাকি
জল কি হুতাশন মাটী কি পবন
কেউ বলেনা একটা নির্ণয় করে ...


আপন ঘরের খবর পাইনা 
     বাঞ্ছা করি পরকে চেনা
লালন বলে পর  পথে পরমেশ্বর
সে কেমন রূপ আমি কি কব রে ....


আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে
আমি জনম ভরে একদিন দেখলাম না রে...

                             কিরণ চন্দ্র রায় এর গাওয়া



সবে বলে ‘লালন ফকির হিন্দু কি যবন


সবে বলে ‘লালন ফকির হিন্দু কি যবন ...’
লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান,

একই ঘাটে আসা যাওয়া
            একই পাটনী দিচ্ছে খেয়া
কেউ খায়না কারো ছোঁয়া
           বিভিন্ন জল কে কোথা পায়?


বেদ পুরান করেছে জারি
              যবনের সাঁই হিন্দুর হরি
লালন বলে বুঝতে না’রি
            এরূপ সৃষ্টি করলেন
                 কি রূপ প্রমাণ ...



বিবিদের নাই মোসলমানী
         পৈতা নাই যার সে’ও বাম্‌নী
বোঝারে রে ভাই দীব্য জ্ঞানী
     লালন তেমনি ফাতনার জাতে টান।।

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১২

সখী কুঞ্জ সাজাও গো. আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে


বন্ধে মায়া লাগাইছে,পিরিতি শিখাইছে


বন্ধে মায়া লাগাইছে,পিরিতি শিখাইছে
দেওয়ানা বানাইছে
কি যাদু করিয়া বন্ধে,মায়া লাগাইছে।

বসে ভাবি নিরালায়
আগেতো জানিনা বন্ধের পিরিতের জালায়
যেমন ইটের ভাটায় কয়লা দিয়া আগুন জালাইছে।

আমি কি বলিব আর
বিচ্ছেদের আগুনে পুড়ে কলিজা আঙ্গার
প্রান বন্ধের পিরিতের নেশায় কুলমান গেছে।

বাউল আব্দুল করিম গায়
ভুলিতে পারিনা আমার মনে যারে চায়
কুলনাশা পিরিতের নেশায় কুলমান গেছে।


আইলায় না, আইলায় নারে


আইলায় না, আইলায় নারে 
বন্ধু করলায়রে দিওয়ানা
সূখ বশন্ত সূখের কালে
শান্তিতো দিলায় নারে 
বন্ধু আইলায় নারে।

অতি সাধের পিরিতরে বন্ধু
নাইরে যার তুলনা
দারুন বিচ্ছেদের জালা
আমি আগেতো জানি নাইরে 
বন্ধু আইলায় নারে।

গলে মোর কলংকের মালা
কেউ ভালবাসে না
কূল মান দিয়া কি করিব আমি 
তোমায় যদি পাই নারে
বন্ধু আইলায় নারে।

আব্দুল করিম কূল মান হারা
তুমি কি জানো না
সুসময়ে সুজন বন্ধু
দেখাতো দিলায় নারে
বন্ধু আইলায় নারে।

আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা


আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা
কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া ।।

না আসিলে কালো ভ্রমর
কে হবে যৌবনের দোসর?
সে বিনে মোর শূন্য বাসর আমি জিয়ন্তে মরা ।।

কুল-মানের আশা ছেড়ে
মন-প্রাণ দিয়াছি যারে
এখন সে কাঁদায় আমারে, এই কী তার প্রেমধারা ?

শুইলে স্বপনে দেখি
ঘুম ভাঙ্গিলে সবই ফাঁকি
কত ভাবে তারে ডাকি তবু সে দেয় না সাড়া ।।

আশা পথে চেয়ে থাকি
তারে পাইলে হব সুখি
এ করিমের মরণ বাকী, রইলো সে যে অধরা ।।

কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে


কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে,
ফুলে বাইলা ভোমরা
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

সোয়া চন্দন ফুলের মালা,
সখিগণে লইয়া আইলা
কৃষ্ণ দিলায় রাধার গলে,
বাসর হইল উজালা
বাসর হইল উজালা গো,
বাসর হইলো উজালা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

কৃষ্ণ দিলায় রাধার গলে,
রাধায় দিলা কৃষ্ণর গলে
আনন্দে সখীগণ নাচে
দেখিয়া প্রেমের খেলা
দেখিয়া প্রেমের খেলা গো
দেখিয়া প্রেমের খেলা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

কৃষ্ণ প্রেমের প্রেমিক যারা,
নাচে গায় খেলে তারা
কুল ও মানের ভয় রাখে না,
ললিত ও আর বিশখা
ললিত ও আর বিশখা গো
ললিত ও আর বিশখা।
ময়ুর বেশেতে সাজুইন রাধিকা।

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২

কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা
হাওয়া দমে দেখ তারে আসল বেনা ।।

বিনা তেলে জ্বলে বাতি
দেখতে যেমন মুক্তা মতি
...জলক দেয় তার চতুর্ভিতি মধ্যে খানা ।।

তিল পরিমাণ জায়গা সে যে
হদ্দরূপ তাহার মাঝে
কালায় শোনে আঁধলায় দেখে নেংড়ার নাচনা ।।


যে গঠিল এ রঙমহল, না জানি তার রূপটি কেমন।
সিরাজ সাঁই কয় নাই রে লালন তার তুলনা।


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।।

হাওয়া দমে দেখ তারে আসল বেনা...
কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।।




আধার ঘরে জ্বলছে বাতি


কি সন্ধানে যাই সেখানে আমি মনের মানুষ যেখানে
আধার ঘরে জ্বলছে বাতি দিবা রাতি নাই সেখানে।।
যেতে পথে কাম নদীতে পারি দিতে ত্রিবিনে
কতো ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা পরে নদীর তোড় তুফানে।।
রসিক যারা চতুর তারা তারাই নদীর ধারা চেনে
উজান তরী যাচ্ছে বেয়ে তারাই স্বরূপ সাধন জানে।।
লালন বলে ম’লাম জ্বলে দিবানিশি জলে স্থলে
আমি মণি হারা ফণির মত হারা হইলাম পিতৃধনে।


শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

কে তাহারে চিনতে পারে


ভবে কে তাহারে চিনতে পারে
এসে মদীনায় তরীক জানায়
এ সংসারে।।
সবে বলে নবী নবী
নবী কি নিরঞ্জন ভাবি
দেল ঢুঁড়িলে জানতে পাবি
আহম্মদ নাম হল কারে।।
যার মর্ম সে যদি না কয়
কার সাধ্য কে জানিতে পায়
তাইতে আমার দীন দয়াময়
মানুষরূপে ঘোরে ফেরে।।
নফী এজবাত যে বোঝেনা
মিছেরে তার পড়াশুনা
লালন কয় ভেদ উপাসনা
না জেনে চটকে মারে।।

পাখি কখন জানি উড়ে যায়


পাখি কখন জানি উড়ে যায়
একটা বদ্ হাওয়া লেগে খাঁচায়

ভেবে অন্ত নাহি দেখি
কার বা খাঁচায় কে-বা পাখি।
আমার এই আঙ্গিনায় বসে
আমারে মজাতে চায়।

খাঁচার আড়া প'ল খসে
পাখি আর দাঁড়াবে কী সে?
আমি এই ভাবনা ভাবছি মিছে-
আমার চমকজ্বরা বইছে গায়।

আগে যদি যেত জানা
জংলা কভূ পোষ মানে না।
তা হলে হয় প্রেম করতাম না
লালন ফকির কেঁদে কয় ...

আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী


আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী?
ইতরপনা কার্য আমার অহর্নিশি।।
  জঠর যন্ত্রণা পেয়ে
 এলাম যে করার দিয়ে
 রইলাম তা সব ভুলিয়ে
  ভবে আসি।।
চিনলাম না সে গুরু কি ধন
জানলাম না তার সেবা সাধন
ঘুরতে বুঝি হল রে মন
চোরাশি।।
গুরু যার থাকে সদায়
শমন বলে তার কিসের ভয়
লালন বলে, মন তুই আমার
করলি দুষি।।

কে তোমার যাবে সাথে?



ও মন, কে তোমার যাবে সাথে?
কোথা রবে ভাই বন্ধু সব
              পড়বি যেদিন কালের হাতে।।
যে আশার আশায় আসা
হল না তার রতি মাসা
ঘটালি রে কি দুর্দশা
              কু-সঙ্গে কু-রঙ্গে মেতে।।
নিকাশের দায় করে খাড়া
মারবি আতশের কোড়া
সোজা করবে বেঁকাতেড়া
              জোর জবর খাটবে না তাতে।।
যারে ধরে পাবি নিস্তার
তারে সদায় ভাবিরে পর
সিরাজ সাঁই কয়, লালন তোমার
              সারে ভবের কুটুম্বিতে।।

আপন ঘরের খবর লে না


আপন ঘরের খবর লে না।
অনায়াসে দেখতে পাবি
            কোনখানে কার বারামখানা।।
কোমল ফোটা কারে বলি
কার মোকাম তার কোথায় গলি
কোন সময় পড়ে ফুলি
            মধু খায় সে অলি জনা।।
অন্য জ্ঞান যার সখ্য মোক্ষ
সাধক উপলক্ষ
অপরূপ তার বৃক্ষ
            দেখলে চক্ষের পাপ থাকে না।।
শুষ্ক নদীর শুষ্ক সরোবর
তিলে তিলে হয় গো সাঁতার
লালন কয়, কৃতি-কর্মার
            কি কারখানা।।

জলে গিয়াছিলাম সই


বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১২

কোন মেস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়


কোন মেস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

চন্দ্র-সূর্য বান্ধা আছে নাওয়েরই আগায়
দূরবীনে দেখিয়া পথ মাঝি-মাল্লায় বায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

রঙ-বেরঙের যতো নৌকা ভবের তলায় আয়
রঙ-বেরঙের সারি গাইয়া ভাটি বাইয়া যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

জারি গায়ে ভাটি বায়ে করতাল বাজায়
মদন মাঝি বড়ই পাজি কতো নাও ডুবায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

হারা-জিতা-ছুবের বেলা কার পানে কে চায়
পাছের মাঝি হাল ধরিয়ো ঈমানের বৈঠায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

বাউল আব্দুল করিম বলে বুঝে উঠা দায়
কোথা হইতে আসে নৌকা কোথায় চলে যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।


Add