পৃষ্ঠাসমূহ

লালন গীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
লালন গীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২

আমার মন-চোরারে কোথা পাই

আমার মন-চোরারে কোথা পাই
কোথা যাই মন আজ কিসে বুঝাই
নিষ্কলঙ্কে ছিলাম ঘরে
কিবা রূপ নয়নে হেরে,
মন তো আমার ধৈর্য নাই
ও সে চাঁদ বটে কি গৌর দেখে
হলাম বেহঁস থেকে থেকে
আমার মনে পড়ে তাই
বিষম রোগে আমায় দংশিলে
বিষ উঠিল বেঘ মূলে
সে বিষ গাঁটরি করা,
না যায় হরা
কি করিবে কবিরাজ গোঁসাই
মন বুঝ ধন দিতে পারে
কে আছে এই ভাব-নগরে
কার কাছে এই মন জুড়াই
যদি গুরু দয়াময়
এই অনল নিভায়,
অধীর লালন বলে, তার কি বল উপায়


সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১২

এক ফুলে চার রঙ ধরেছে



এক ফুলে চার রঙ ধরেছে
সে ফুলে ভাব নগরে কি শোভা করেছে।।
কারণবারির মধ্যে সে ফুল ভেসে বেড়ায় একুল ওকূল
শ্বেতবরণ এক ভ্রমর ব্যাকুল সে ফুলের মধুর আশে ঘুরতেছে।
মূল ছাড়া সে ফুলের লতা ডাল ছাড়া তার আছে পাতা
এ বড় অকৈতব কথা
ফুলের ভাব কই কার কাছে।
ডুবে দেখ মন দেল-দরিয়ায়
যে ফুলে নবীর জন্ম হয়
সে ফুল তো সামান্য ফুল নয়,
লালন কয় যার মূল নাই দেশে।।


বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ, ২০১২

আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে


আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে
আমি জনম ভরে একদিন দেখলাম না রে
লড়ে চড়ে ঈষাণ কোণে দেখতে পাই না এ নয়নে
হাতের কাছে যার ভবের হাট বাজার
ধরতে গেলে হাতে পাইনে তারে

সবে বলে প্রাণ পাখী  
      শুনে চুপে চুপে থাকি
জল কি হুতাশন মাটী কি পবন
কেউ বলেনা একটা নির্ণয় করে ...


আপন ঘরের খবর পাইনা 
     বাঞ্ছা করি পরকে চেনা
লালন বলে পর  পথে পরমেশ্বর
সে কেমন রূপ আমি কি কব রে ....


আমার এ ঘর খানায় কে বিরাজ করে
আমি জনম ভরে একদিন দেখলাম না রে...

                             কিরণ চন্দ্র রায় এর গাওয়া



সবে বলে ‘লালন ফকির হিন্দু কি যবন


সবে বলে ‘লালন ফকির হিন্দু কি যবন ...’
লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান,

একই ঘাটে আসা যাওয়া
            একই পাটনী দিচ্ছে খেয়া
কেউ খায়না কারো ছোঁয়া
           বিভিন্ন জল কে কোথা পায়?


বেদ পুরান করেছে জারি
              যবনের সাঁই হিন্দুর হরি
লালন বলে বুঝতে না’রি
            এরূপ সৃষ্টি করলেন
                 কি রূপ প্রমাণ ...



বিবিদের নাই মোসলমানী
         পৈতা নাই যার সে’ও বাম্‌নী
বোঝারে রে ভাই দীব্য জ্ঞানী
     লালন তেমনি ফাতনার জাতে টান।।

শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১২

কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা
হাওয়া দমে দেখ তারে আসল বেনা ।।

বিনা তেলে জ্বলে বাতি
দেখতে যেমন মুক্তা মতি
...জলক দেয় তার চতুর্ভিতি মধ্যে খানা ।।

তিল পরিমাণ জায়গা সে যে
হদ্দরূপ তাহার মাঝে
কালায় শোনে আঁধলায় দেখে নেংড়ার নাচনা ।।


যে গঠিল এ রঙমহল, না জানি তার রূপটি কেমন।
সিরাজ সাঁই কয় নাই রে লালন তার তুলনা।


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।।

হাওয়া দমে দেখ তারে আসল বেনা...
কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।


কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা।।




আধার ঘরে জ্বলছে বাতি


কি সন্ধানে যাই সেখানে আমি মনের মানুষ যেখানে
আধার ঘরে জ্বলছে বাতি দিবা রাতি নাই সেখানে।।
যেতে পথে কাম নদীতে পারি দিতে ত্রিবিনে
কতো ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা পরে নদীর তোড় তুফানে।।
রসিক যারা চতুর তারা তারাই নদীর ধারা চেনে
উজান তরী যাচ্ছে বেয়ে তারাই স্বরূপ সাধন জানে।।
লালন বলে ম’লাম জ্বলে দিবানিশি জলে স্থলে
আমি মণি হারা ফণির মত হারা হইলাম পিতৃধনে।


শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

কে তাহারে চিনতে পারে


ভবে কে তাহারে চিনতে পারে
এসে মদীনায় তরীক জানায়
এ সংসারে।।
সবে বলে নবী নবী
নবী কি নিরঞ্জন ভাবি
দেল ঢুঁড়িলে জানতে পাবি
আহম্মদ নাম হল কারে।।
যার মর্ম সে যদি না কয়
কার সাধ্য কে জানিতে পায়
তাইতে আমার দীন দয়াময়
মানুষরূপে ঘোরে ফেরে।।
নফী এজবাত যে বোঝেনা
মিছেরে তার পড়াশুনা
লালন কয় ভেদ উপাসনা
না জেনে চটকে মারে।।

পাখি কখন জানি উড়ে যায়


পাখি কখন জানি উড়ে যায়
একটা বদ্ হাওয়া লেগে খাঁচায়

ভেবে অন্ত নাহি দেখি
কার বা খাঁচায় কে-বা পাখি।
আমার এই আঙ্গিনায় বসে
আমারে মজাতে চায়।

খাঁচার আড়া প'ল খসে
পাখি আর দাঁড়াবে কী সে?
আমি এই ভাবনা ভাবছি মিছে-
আমার চমকজ্বরা বইছে গায়।

আগে যদি যেত জানা
জংলা কভূ পোষ মানে না।
তা হলে হয় প্রেম করতাম না
লালন ফকির কেঁদে কয় ...

আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী


আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী?
ইতরপনা কার্য আমার অহর্নিশি।।
  জঠর যন্ত্রণা পেয়ে
 এলাম যে করার দিয়ে
 রইলাম তা সব ভুলিয়ে
  ভবে আসি।।
চিনলাম না সে গুরু কি ধন
জানলাম না তার সেবা সাধন
ঘুরতে বুঝি হল রে মন
চোরাশি।।
গুরু যার থাকে সদায়
শমন বলে তার কিসের ভয়
লালন বলে, মন তুই আমার
করলি দুষি।।

আপন ঘরের খবর লে না


আপন ঘরের খবর লে না।
অনায়াসে দেখতে পাবি
            কোনখানে কার বারামখানা।।
কোমল ফোটা কারে বলি
কার মোকাম তার কোথায় গলি
কোন সময় পড়ে ফুলি
            মধু খায় সে অলি জনা।।
অন্য জ্ঞান যার সখ্য মোক্ষ
সাধক উপলক্ষ
অপরূপ তার বৃক্ষ
            দেখলে চক্ষের পাপ থাকে না।।
শুষ্ক নদীর শুষ্ক সরোবর
তিলে তিলে হয় গো সাঁতার
লালন কয়, কৃতি-কর্মার
            কি কারখানা।।

রবিবার, ১১ মার্চ, ২০১২

দেখ না মন, ঝকমারি এই দুনিয়াদারী


দেখ না মন, ঝকমারি এই দুনিয়াদারী।
আচ্ছা মজা কপনি-ধ্বজা উড়ালে ফকিরী।।
            যা কর তা কর রে মন,
            তোর পিছের কথা রেখে স্মরণ;
            বরাবরই (ও তার) পিছে পিছে ঘুরছে শমন,
                        কখন হাতে দিবে দড়ি।।
            (তখন) দরদের ভাই বন্ধুজনা,
            সঙ্গে তোমার কেউ যাবে না;
            মন তোমারি, তারা একা পথে খালি আতে
                        বিদায় দিবে তোমারি।।
            বড় আশার বাসাখানি
            কোথায় পড়ে রবে মন তোর ঠিক না জানি;
            সিরাজ সাঁই কয়, লালন ভেরো
                        তুই করিস্‌ নে কার এন্‌তাজারি।।


তিন পাগলে হইল মেলা নইদে এসে


তিন পাগলে হইল মেলা নইদে এসে
ওরে মন নইদে এসে
তোরা কেউ যাইসনে ও পাগলের কাছে 

একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে দৌড়ে গিয়ে
আবার হরি বলে পড়ছে ঢইলে ধূলার মাঝে
ওরে মন ধূলার মাঝে
তোরা কেউ যাইসনে ও পাগলের কাছে 

একটা নারকোলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা করম দোষে
পাগলের সঙ্গে যাবি পাগল হবি বুঝবি শেষে
ওরে মন বুঝবি শেষে
তোরা কেউ যাইসনে ও পাগলের কাছে 

পাগলের নামটি এমন
বলিতে ফকির লালন হয় তরাইসে
চৈতেনিতে অদয় পাগল নাম ধরে সে
ওরে মন নাম ধরে সে
তোরা কেউ যাইসনে ও পাগলের কাছে


মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি



মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি ।
মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই মূল হারাবি ।। 
এই মানুষে মানুষ গাঁথা
গাছে যেমন আলেক-লতা
জেনে শুনে মুড়াও মাথা
ও মন যাতে তরবি ।।
দ্বিদলের মৃণালে
সোনার মানুষ উজলে
মানুষগুরু নিষ্ঠা হলে
তবে জানতে পাবি ।। 
এই মানুষ ছাড়া মন আমার
পড়বি রে তুই শূন্যাকার
লালন বলে মানুষ আকার
ভজলে তারে পাবি ।।


ক্ষ্যাপা তুই না জেনে তোর আপন খবর যাবি কোথায়


ক্ষ্যাপা তুই না জেনে তোর আপন খবর যাবি কোথায়।
আপন ঘর না বুঝে বাহিরে খুঁজে পড়বি ধাঁধায়।।
             আমি সত্য না হইলে
             হয় গুরু সত্য কোন কাজে
আমি যেরূপ দেখ না সেরূপ দীন দয়াময়।।
             আত্মরূপে সেই অ-ধর
             সঙ্গী অংশে কলা তার
ভেদ না জেনে বনে বনে ফিরিলে কি হয়।।
             আপনার আপনি না চিনে
             ঘুরবি কত ভুবনে
লালন বলে, অন্তিম কালে নাই রে উপায়।।



আমি অপার হয়ে বসে আছি


আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।
আমি একা রইলাম ঘাটে
ভানু সে বসিল পাটে-
(আমি) তোমা বিনে ঘোর সংকটে
না দেখি উপায়।।
নাই আমার ভজন-সাধন
চিরদিন কুপথে গমন-
নাম শুনেছি পতিত-পাবন
তাইতে দিই দোহাই।।
অগতির না দিলে গতি
ঐ নামে রবে অখ্যাতি-
লালন কয়, অকুলের পতি
কে বলবে তোমায়।।

আমি ঐ চরণে দাসের যোগ্য নই


আমি ঐ চরণে দাসের যোগ্য নই।
নইলে মোর দশা কি এমন হয়।।
ভাব জানিনে প্রেম জানিনে দাসী হতে চাই চরণে।
ভাব দিয়ে ভাব নিলে মনে সেই সে রাঙ্গা চরণ পায়।।
নিজগুনে পদারবিন্দু দেন যদি সাঁই দীনবন্ধু
... তবে তরি ভবসিন্ধু নইলে না দেখি উপায়।।
অহল্যা পাষানী ছিলো প্রভুর চরণ ধূলায় মানব হলো।
লালন পথে পড়ে রইলো যা করে সাঁই দয়াময়।।

মন তুমি সহজে কি সই হবা


মন তুমি সহজে কি সই হবা
ভাবার ঘরে মুগুর প'লে
সেই দিনে গা টের পাবা
চিরদিন ইচ্ছা মনে তুমি
আইল ড্যাঙাইয়া ঘাস খাবা
বাহার তো গেল চলে
পথে যাও ঠ্যালা পেলে
কোনদিন পাতাল ধাবা
তবু তোমার যায় না এবার
ট্যারা চলন বদ-লোভা
সুখের আশা থাকলে মনে
দুখের ভার নিদানে
অবশ্য মাথায় নিবা
ইল্লতে স্বভাব হলে
পানিতে যায় না ধুলে
খাসলতি কিসে ধুবা
ফকির লালন বলে, হিসাব কালে
সকল ফিকির হারাবা

এ বড় আজব কুদরতি


এ বড় আজব কুদরতি
আঠার মোকামের মাঝে
জ্বলছে একটি রূপের বাতি
কিবা রে কুদরতি খেলা
জলের মাঝে অগ্নি-জ্বালা
খবর জানতে হয় নিরালা
নীরে ক্ষীরে আছে জ্যোতি
ফণিমনি লাল জহরে
সে বাতি রেখেছে ঘিরে
তিন সময় তিন যোগ সেই ঘরে
যে জানে সে মহারতি
থাকতে বাতি উজালাময়
দেখতে যার বাসনা হৃদয়
লালন কয়, কখন কোন সময়
অন্ধকার হবে বসতি


চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি


চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি
ভেদ-পরিচয় দেয় না আমায় ঐ খেদে ঝরে আঁখি।।
পাখি বুলি বলে শুনতে পাই রূপ কেমন দেখিনা ভাই
বিষম ঘোর দেখি।
চেনাল পেলে চিনে নিতাম যেতো মনের ধুকধুকি।।
পোষা পাখি চিনলাম না এ লজ্জা তো যাবে না উপায় কি করি!
কোন দিন জানি যাবে উড়ে ধুলো দিয়ে দুই চোখই।।
নয় দরজা খাঁচাতে যায় আসে পাখি কোন পথে
চোখে দিয়ে রে ভেল্কি।
সিরাজ সাঁই কয় বয় লালন বয় ফাঁদ পেতে ঐ সিঁদমুখী।


সময় গেলে সাধন হবে না


সময় গেলে সাধন হবে না
দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধন হবে না

(জানো না মন খালে বিলে
থাকে না মিল জল শুকালে)
কি হবে আর বাধন দিলে
মোহনা শুকনা থাকে, মোহনা শুকনা থাকে, মোহনা শুকনা
সময় গেলে সাধন হবে না
সময় গেলে সাধন হবে না

অসময়ে কৃষি করে মিছে মিছি খেটে মরে
গাছ যদি হয় বীজের জোরে ফল ধরে না
তাতে ফল ধরে না, ফল ধরে না, তাতে ফল ধরে না
সময় গেলে সাধন হবে না

অমাবস্যায় পূর্নিমা হয়
মহা জোগ সে দিনের উদয়
লালোন বলে তাহার সময়
দনডোমো রয় না, দনডোমো রয় না
সময় গেলে সাধন হবে না

দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
সময় গেলে সাধোন হবে না


Add